পুরান ঢাকার নিস্তব্ধ বিকেলটা যেন হঠাৎই রক্তে রঙিন হয়ে উঠেছিল।
‘রৌশান ভিলা’ নামের সেই বাড়ির তিনতলায় পড়ে ছিল এক তরুণের নিথর দেহ—
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা যোবায়েদ হোসাইন।
তদন্তে এখন বেরিয়ে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—
প্রেমের টানাপোড়েনই যেন নিয়ে গেল তার প্রাণ।
পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং তার প্রেমিক মাহির রহমান।
বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—তাদের মধ্যে নয় বছরের সম্পর্ক ছিল।
সম্প্রতি সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে যখন বর্ষা মাহিরকে বলে,
সে যোবায়েদকে পছন্দ করে—তখনই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মাহির।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন—
“যোবায়েদ ও বর্ষার মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।
কিন্তু বর্ষার কথাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে মাহির ও তার বন্ধু পরিকল্পনা করে যোবায়েদকে হত্যা করে।”
রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আরমানিটোলার ওই বাসার তিনতলায় পাওয়া যায় যোবায়েদের রক্তাক্ত দেহ।
সিঁড়ি থেকে শুরু করে তিনতলা পর্যন্ত ছিল রক্তের দাগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—দৃশ্যটি ছিল হৃদয়বিদারক।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন—
বর্ষা জিজ্ঞাসাবাদে ছিলেন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কোনো ভয় বা অনুশোচনার চিহ্ন দেখা যায়নি।
তবে হত্যার পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে তার সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না,
তা যাচাই করা হচ্ছে।
যোবায়েদ হোসাইন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র,
একইসঙ্গে কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য।
গত এক বছর ধরে তিনি বর্ষাকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।
হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
রাতেই শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন,
অবরোধ করে রাখেন তাতীবাজার মোড়।
রবিবার রাতেই বর্ষাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
এদিকে সোমবার সকাল পর্যন্তও নিহত যোবায়েদের পরিবার মামলা করতে পারেনি।
বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত অভিযোগ করেছেন—
“আমরা পাঁচজনের নামে মামলা দিতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু ওসি বলেছেন—মেয়ের বাবা-মাকে আসামি করলে মামলা দুর্বল হয়ে যাবে।”
তদন্ত চলছে, তবে প্রশ্ন এখন একটাই—
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে লুকানো প্রেম না প্রতিশোধ?
পুরান ঢাকার বাতাসে এখনো ভেসে বেড়ায় যোবায়েদের সহপাঠীদের কণ্ঠ—
“এই হত্যার বিচার চাই, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
Leave a comment