মধ্যপ্রাচ্যের টানটান উত্তেজনার মাঝেই নতুন বার্তা দিল ইরান। দুই শত্রু দেশ এক হয়ে লড়বে পশ্চিমা দেশ গুলোর বিরুদ্ধে।
ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও যেকোনো বহিরাগত হুমকি থেকে রক্ষায় কাজ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে ইরাক।
সোমবার তেহরানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল–আরাজি।
তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি।
আল–আরাজি স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
“ইরান কিংবা প্রতিবেশী কোনো দেশকে হুমকি দেওয়ার জন্য ইরাকের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, বাগদাদ তেহরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ইরাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়—তারা ইতিমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টে দুই দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
ইরাকি উপদেষ্টা বলেন—
“আমাদের ভূমি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে দেব না। আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উত্তেজনা রোধে একসাথে কাজ করছি।”
এদিকে ইরানের নিরাপত্তা সচিব আলী লারিজানি জানান,
“আমাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা। নিরাপত্তা সহযোগিতা ছাড়া সেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।”
বিশ্লেষকেরা বলছেন—এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মোড় এনে দিতে পারে।
একদিকে ইরান ইসরায়েল ও পশ্চিমা চাপের মুখে, অন্যদিকে ইরাকের এই অবস্থান অঞ্চলে নতুন আরব ঐক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাগদাদের আকাশে টহল দিচ্ছে ইরাকি বিমান, সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
আর তেহরান থেকে পাওয়া বার্তা একটাই—
“প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিত্রতা, আগ্রাসনের জবাবে প্রতিরোধ।”
Leave a comment