ইউরোপের কূটনৈতিক আকাশে আবারও গর্জে উঠল যুদ্ধের সতর্ক ঘণ্টা।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন
বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন।
বেলজিয়ান দৈনিক ডি মরগেন-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
ফ্রাঙ্কেন বলেন, যদি রাশিয়া কখনো ব্রাসেলসের দিকে
একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়ে মারে—
তবে “মস্কো মানচিত্রে খুঁজেও পাওয়া যাবে না।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অটুট।
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
ওয়াশিংটন শতভাগভাবে আমাদের পাশে থাকবে।”
মন্ত্রী আরও যোগ করেন—
“একটি ক্রুজ মিসাইল যদি ব্রাসেলসে পড়ে,
সেটি শুধুই আক্রমণ নয়, আত্মহত্যা।
পুতিনও জানেন, এই সীমা তিনি অতিক্রম করবেন না।”
তবে ফ্রাঙ্কেন রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকেও হালকাভাবে দেখার বিপক্ষে সতর্ক করেন।
তার ভাষায়—
“রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতি এখন নাটোর সব সদস্য রাষ্ট্রের সম্মিলিত গোলাবারুদের চারগুণ বেশি উৎপাদন করছে।
কিন্তু ইউরোপের এখনও কোনো কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড নেই—এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।”
মন্ত্রী বলেন,
“রাশিয়া ইউক্রেনে হোঁচট খাচ্ছে কারণ তারা মূলত পুরো পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে লড়ছে।
ইউক্রেন আজও টিকে আছে আমাদের দেওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অর্থের কারণে।”
ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতির প্রসঙ্গেও সতর্ক করেন ফ্রাঙ্কেন।
তার মতে, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে যৌথ সামরিক জোট পশ্চিমের জন্য এক নতুন হুমকি।
তিনি বলেন,
“চীন চায় এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হোক,
কারণ তাতে পশ্চিমা বিশ্ব দুর্বল হয়।
তারা রুশ কাঁচামাল কিনছে, অস্ত্র দিচ্ছে,
এমনকি পুতিনের পাশে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে।”
বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেন বেলজিয়াম মন্ত্রী।
তিনি বলেন,
“আমি মনে করি, রাশিয়ার পক্ষে বাল্টিক অঞ্চলে বড় আক্রমণ চালানো এখন প্রায় অসম্ভব।
ওগুলো ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র—
আর ইউরোপে আমাদের হাতে শিগগিরই থাকবে ছয়শরও বেশি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান।
রাশিয়ানরা এই জেটগুলোকে ভয় পায়—
কারণ এগুলোকে তারা দেখতেই পায় না।”
Leave a comment