পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার পাহাড়ি জনপদে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে প্রতিধ্বনিত হলো গুলির শব্দ।
ট্যাংক জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনী চালায় বিশেষ অভিযান—
লক্ষ্য, তথাকথিত “ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর ঘাঁটি”।
পাক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আইএসপিআর জানিয়েছে—
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে
মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৮ জন সশস্ত্র যোদ্ধা।
তাদেরকে বলা হচ্ছে “ফিতনা আল-খাওয়ারিজ”,
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার মদদে
পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছিল তারা।
আইএসপিআর জানায়, অভিযানের সময়
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে
সন্ত্রাসীদের অবস্থান ঘিরে ফেলে তীব্র গুলিবিনিময়ে তাদের “নরকে পাঠায়”।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম।
অভিযান শেষে শুরু হয়েছে ‘স্যানিটাইজেশন অপারেশন’—
অর্থাৎ এলাকায় আরও কোনো সশস্ত্র সদস্য লুকিয়ে আছে কি না,
তা খুঁজে বের করে নির্মূল করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই
পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে বাড়ছে সন্ত্রাসী তৎপরতা।
বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে
নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত
কেবল কেপিতেই ঘটেছে ৬০০টিরও বেশি হামলা,
যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৭৯ জন পুলিশ সদস্য।
পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই সন্ত্রাসবাদ কেবল সীমান্তের ভেতরের সমস্যা নয়,
বরং বাইরের শক্তি—বিশেষত ভারতীয় গোয়েন্দা তৎপরতার ফল।
তবে স্বাধীন সূত্রে এখনো সেই দাবির পূর্ণ প্রমাণ মেলেনি।
তবুও, পাকিস্তান বলছে—
দেশ থেকে “ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ” পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত
তাদের অভিযান চলবে—প্রয়োজনে আরও কঠোর হাতে।
Leave a comment