ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — রাজধানীর শ্যামলী, মতিঝিলসহ একাধিক এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের (আ. লীগ) নেতা–কর্মীরা গত কয়েকদিনে কয়েক দফা ঝটিকা মিছিল করেছে। শ্যামলীতে পুলিশের বাধার মুখে ককটেল সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে; ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয় বলে পুলিশের দাবি। সন্ধ্যায় মতিঝিলে আরেক দফা ঝটিকা মিছিলে স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচজনকে ধরে থানায় সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্যামলীর শিশুমেলা এলাকায় কিছুক্ষণ স্লোগান–মিছিলের পর উপস্থিতি দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশ হস্তক্ষেপের সময় ককটেল বিস্ফোরণের কথা জানায় এবং ছয়জনকে আটক করে। বিকেলে/সন্ধ্যায় দিলকুশা—বিডিবিএল ভবনের সামনে ছোট দলীয় সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান চলাকালে পাঁচজনকে স্থানীয়রা ধরে পুলিশের হাতে তোলে।
গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও ধানমন্ডিতেও অনুরূপ ঝটিকা মিছিল হয়েছে; ৫ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় আটজন গ্রেপ্তার হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর দারুসসালামে ‘অবৈধ সমাবেশের প্রস্তুতি’ নেয়ার অভিযোগে ১২ জনকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক ইউনিট এসব ঝটিকা সমাবেশ ঠেকাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। কমিশনারের বরাতে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, নজরদারি সত্ত্বেও ছোট ছোট দলে হঠাৎ রাস্তায় নেমে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে ‘অস্তিত্ব জানান’ দিচ্ছেন কর্মীরা—তবে পুলিশ প্রস্তুত এবং ইতোমধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
কীভাবে হচ্ছে এই ঝটিকা মিছিল?
স্থানীয় ও পুলিশের বর্ণনায়—
- ২০–৫০ জনের দল দ্রুত জড়ো হয়, স্বল্প সময় স্লোগান দিয়ে ভিডিও তোলে এবং পাশের গলি/রাস্তায় সরে যায়।
- পুলিশ পৌঁছালে বিচ্ছিন্ন কয়েকজন ধরা পড়ে; শ্যামলীতে হালকা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
উপরের প্রতিটি ঘটনার সময়–স্থান ও গ্রেপ্তারের তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে মিলেছে।
প্রেক্ষাপট
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ; নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে—ফলে যে কোনো সমাবেশকে ‘অবৈধ’ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলীয় সমর্থকদের সমাবেশ–মিছিলে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক ্মোট আঃমীলীগ কর্মী আটক সংখ্যাঃ
- ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল—শ্যামলীতে আটক হয়েছে ৬ জন।
- ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়—মতিঝিল, দিলকুশা এলাকায়; স্থানীয়দের সহায়তায় আটক হয়েছে ৫ জন
- ৫ সেপ্টেম্বর—তেজগাঁও/ধানমন্ডি এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৮ জন
- ১২ সেপ্টেম্বর—দারুসসালামে গুপ্ত মিটিং এর প্রস্তুতির সময় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও নিরাপত্তা
ডিএমপি বলছে, রাজধানীর সব থানায় প্রস্তুতি জোরদার; গোয়েন্দা ইউনিটগুলোও মাঠে আছে। স্থানীয়দের প্রতি পরামর্শ—এ ধরনের ফ্ল্যাশ সমাবেশে ভিড় না করা ও সন্দেহজনক নড়াচড়া দেখলে থানায় খবর দেয়া।
Leave a comment