বিশ্বকাপে ভয়ঙ্কর দল হবে ব্রাজিল, বললেন কিংবদন্তিরা
রিও ডি জেনেইরোর আলো ঝলমলে রাতে ফুটে উঠল ব্রাজিলের নতুন জাগরণ।
দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫–০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আবারও প্রমাণ করল—সেলেসাও মানে এখনো বিশ্ব ফুটবলের পরাক্রমশালী নাম।
ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের এই জয়ে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নতুন কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে এটাই ব্রাজিলের সবচেয়ে দাপুটে পারফরম্যান্স—এমনটাই বলছেন দেশটির তিন কিংবদন্তি ফুটবলার—জিকো, রোমারিও এবং কাফু।
ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে এক চ্যারিটি ম্যাচ শেষে তাঁরা বলেন—এই ব্রাজিল যদি এমন খেলাটা ধরে রাখতে পারে, তাহলে আসন্ন বিশ্বকাপে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ হিসেবেই নামবে তারা।
জিকোর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাসের ঝলক, তিনি বললেন—
“শুক্রবারের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। এই খেলোয়াড়রা কোচকে বোঝাতে চাইছে যে তারা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত। মনোযোগ, দায়িত্ববোধ—সবকিছুতেই নতুন এক স্ফুরণ এসেছে।”
চোটে জর্জরিত নেইমারকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই জিকো হেসে বললেন—
“ও খেলবে কি না, সেটা নির্ভর করছে ওর শরীরের ওপর। কিন্তু মন দিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এই দলটা এখন নেইমার-কেন্দ্রিক নয়—এটা এখন একটা সম্পূর্ণ ইউনিট।”
রোমারিও বলেন—
“আজকাল ৫–০ গোলে জেতা সহজ না। এটা দেখিয়েছে—ব্রাজিল আবার সেই পুরনো ছন্দে ফিরছে। পুরো দেশ এখন নতুন করে আশাবাদী।”
আর ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু বলেন—
“আনচেলোত্তি এসে দলের কাঠামো ঠিক করে দিয়েছেন। রক্ষণে এসেছে ভারসাম্য, আক্রমণে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণ। আমি নিশ্চিত—বিশ্বকাপে ব্রাজিল হবে ভয়ঙ্কর এক দল।”
দুই দশক ধরে বিশ্বকাপের ট্রফি স্পর্শ করতে না পারা ব্রাজিল তাই আবারও স্বপ্ন দেখছে ষষ্ঠ শিরোপার।
মারাকানার রাতের সেই ঝলক যেন বলে দিচ্ছে—
“ফুটবল যদি শিল্প হয়, তবে ব্রাজিলই তার চিরন্তন শিল্পী।”
Leave a comment