বাংলাদেশের নিঃশব্দ ভূগর্ভে জেগে উঠছে অজানা এক কম্পন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দেশটি এখন এক বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কাজনক ঝুঁকির মধ্যে।
তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করা এই ভূখণ্ড যেকোনো মুহূর্তে নড়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর কম্পনে—যার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়বে রাজধানী ঢাকা থেকে সীমান্তের প্রান্ত পর্যন্ত।
দুর্ভাগ্য, এখনো সেই বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা বারবার শোনা গেলেও বাস্তবে নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, নেই পরিকল্পিত প্রতিরোধ কাঠামো।
বড় কোনো ভূমিকম্প কেন্দ্র যদি ঢাকার আশেপাশে হয়—তাহলে অচল হয়ে যেতে পারে পুরো রাজধানী, ধসে পড়তে পারে হাজারো ভবন, থেমে যেতে পারে প্রাণের স্পন্দন।
ভূকম্পবিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানাচ্ছেন—বাংলাদেশ অন্তত তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে।
দেশের ভেতরে প্রায়ই ছোট থেকে মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে, যা সতর্ক করছে আরও বড় কিছুর আগমনের ইঙ্গিত।
তিনি বললেন—“ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি ভয়ঙ্করভাবে বেশি। একটি বড় ভূমিকম্প রাজধানীর অবকাঠামোকে ভেঙে ফেলতে পারে মুহূর্তেই।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
ভূমিকম্পের মতো বড় বিপর্যয় সামলানোর সক্ষমতা বাংলাদেশে অত্যন্ত সীমিত।
অধ্যাপক খন্দকার গোলাম হেলাল স্পষ্টভাবে বলেছেন—
“ভূমিকম্পের বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় ২০ বছরেও প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশের।”
তবে ফায়ার সার্ভিস জানাচ্ছে, তারা এখন নতুন কৌশল ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলাউদ্দিন বলেন—
“আমরা সচেতনতা কর্মসূচি চালাচ্ছি, উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ বাড়াচ্ছি।”
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—
ভূমিকম্পের ক্ষতি রোধে এখনই প্রয়োজন সহনশীল নগরায়ন, শক্তিশালী ভবন কাঠামো এবং জনগণের সচেতনতা।
তারা বলছেন “দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই প্রস্তুত হতে হবে। কারণ, বিপর্যয় এলে সময় দেয় না দ্বিতীয়বার ভাবার।”
Leave a comment