Monday , 2 March 2026
শিরোনাম
Home জাতীয় পাহাড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি: অস্ত্র পাচার ও স্বাধীনতার পরিকল্পনা বাড়াচ্ছে উত্তেজনা
জাতীয়

পাহাড়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি: অস্ত্র পাচার ও স্বাধীনতার পরিকল্পনা বাড়াচ্ছে উত্তেজনা

Share
Share

পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে চলছে ভয়ঙ্কর খেলা। নীরবতার আড়ালে তৈরি হচ্ছে এক মারাত্মক শক্তি—যাদের হাতে এখন যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য ব্যবহৃত মারনাত্তক সব অস্ত্র।

খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি — তিন পার্বত্য জেলা এখন আর শুধুই প্রকৃতির রঙ-রসের ঠিকানা নয়। পাহাড়ের নীরব জঙ্গলে এমন একটি অন্ধকার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য নিঃসন্দেহে বড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। গোয়েন্দা-বাহিনী, পুলিশ ও মিলিটারি সূত্র একাধিকবার জানিয়েছে — পাহাড়ে রাখা আছে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত মারাত্মক আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র; তাদের লক্ষ্য একটাই — তিন পার্বত্য জেলা মিলিয়ে ‘স্বাধীন জুম্মল্যান্ড’ গঠন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে অনুসারে প্রতিবছর পাহাড় থেকে আদায় হচ্ছে শত শত কোটি টাকার চাঁদা। এই টাকা অস্ত্র কেনার জন্য খরচ হচ্ছে। সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আধুনিক গ্রেনেড লঞ্চার, AK 47 , M-16  কারবাইন, স্নাইপার রাইফেল, রকেট লঞ্চার, এমনকি বিমানবিধ্বংসী সরঞ্জামও।

প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যগুলো বলছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারের মুল রুটগুলো হচ্ছে:

মায়ানমার হয়ে লামা  অতপর আলীকদম হয়ে বান্দরবান কিংবা রাঙ্গামাটি রুট এরপর চলে যায় গভীর জংগলে

পাশাপাশি ভারতের মিজোরাম এবং ত্রিপুরা হয়ে থানচি, বড়থলি, বিলাইছড়ি রুট দিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ি আড্ডায় পৌছায় এই অস্ত্র।

স্থানীয় পাহাড়ি, ভারতীয় দালাল চক্র এবং পুরনো গেরিলা-নেটওয়ার্ক সক্রিয় এই লেনদেনে।

স্থানীয় কিছু সূত্রে ধরা পড়েছে ভারতীয় রুপি ব্যবহিত হচ্ছে এই আদানপ্রদানে।

গত ১৫ জানুয়ারি: এক অভিযানে দাবি করা হয় — ৪০ মিলিমিটার গ্রেনেড লঞ্চার, দুটি M-16, তিনটি AK 47, দশটি গ্রেনেড ও হাজার মিলিমিটার রাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে বান্দরবান এলাকায় এক চল্লিশটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে সেমি-অটোমেটিক এসএমজি, রাইফেল, গ্রেনেডজাতীয় সরঞ্জাম ও।

আইএসপিআর জানাচ্ছে—দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তি-সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র দমন—দুটিই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

পরিশেষে বলা যায়,
বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চল এখন আর শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি নয়—বরং হয়ে উঠছে এক “বিস্ফোরক টাইমবোমা”। যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, আগামী কয়েক বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিণত হতে পারে দেশের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতার কেন্দ্রে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ঘুষকাণ্ডের অভিযোগে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে দুদকের আকস্মিক অভিযান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ রবিবার হঠাৎ অভিযান চালায়। সংস্থাটির এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের...

টানা তিন মাসে রপ্তানি খাতে ধস, তৈরি পোশাকেই বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎসগুলোর একটি পণ্য রপ্তানি খাত টানা তিন মাস ধরে নিম্নমুখী। অক্টোবর মাসে দেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮২ কোটি...

Related Articles

বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় বিতর্ক, বাদ পড়লেন শীর্ষ নেতারা; ৭ জেলায় বিক্ষোভ

বিএনপির ২৩৭ আসনের প্রার্থী তালিকা ‘প্রবীণ-নবীনের ভারসাম্য’ বলে দাবি করলেও, বিতর্কিত নাম...

বিএনপির প্রার্থী তালিকায় নেতাদের সন্তানদের প্রাধান্য: ১৯ ছেলে-৫ মেয়ে, পরিবারের ছায়া রাজনীতির উত্তরাধিকার

বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) তাদের মনোনয়ন তালিকায় দলীয় প্রয়াত, সাবেক ও বর্তমান...

খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামে ভারতের নীলনকশা নিয়ে উত্তেজনা: সংঘর্ষে ৩ নিহত, ১৪৪ ধারা জারি

খাগড়াছড়ি-রাঙামাটিতে ও চট্টগ্রাম নিয়ে ভারতের নীলনকশা। চট্টগ্রাম হবে আমাদের অংঘরাজ্য” বলেছে ভারতীয়...

খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা

খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ১৪৪ ধারা জারি, নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে হামলা,...