রাতভর গোলাগুলির সেই অশান্তি শেষে সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনার মাত্রা তলানিতে না এসে, উর্ধ্বগামী অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তান দাবি করছে—কাবুলে সংঘটিত এক হামলার জবাবে তাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে আফগান তালেবানদের ১৯টি চেকপোস্ট দখল করেছে এবং বহু সশস্ত্র সদস্যকে হত্যা করেছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শুক্রবার এক্সে দেওয়া বার্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, “আফগান বাহিনীর বেসামরিক জনগণের ওপর গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমাদের সাহসী বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে—উসকানিকে আমরা সহ্য করব না।” তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের জনগণ সীমান্তে আমাদের সহায়তায় দাঁড়িয়েছে; আফগানিস্তানকেও ভারতের মতোই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র বলছে—রাতভর চালানো এই প্রতিশোধমূলক অভিযানে কামান, ট্যাঙ্ক ও হালকা-ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ধারাবাহিকতার সঙ্গে একাধিক চৌকি লক্ষ্যভিত্তিকভাবে আঘাত হানো হয়; সূত্রের দাবি, অনেক পোস্ট ধ্বংস হয়েছে ও সেখানে উপস্থিত তালেবান জনশক্তি এলাকায় নিহত হয়েছে।
পিটিভি নিউজ এবং অন্যান্য স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের দাবি—কিছু পোস্ট আগুনে পুড়েছে; এক ভিডিওতে দেখা গেছে কুররাম সীমান্তের জায়গায় আফগান নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানি সৈন্যদের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। পাকিস্তানি সূত্র এখানেই থামেনি—তারা বলছে, আফগানিস্তানের দিক থেকে গুলি করার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল তৎসংলগ্ন ‘খাওয়ারিজ’ গ্রুপকে পাকিস্তানের সীমান্তে প্রবেশ করানো।
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়—ত্রাসব্যবস্থার কারণে পালিয়ে যাওয়া অনেক তালেবানকেও শনাক্ত করা হয়েছে; তবে বেশ কয়েক ডজন ডেড বা ইনজুরির সংখ্যাও তারা দাবি করেছে। এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় নি—এবং আফগান দিক থেকে তৎক্ষণাত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন জানাচ্ছে।
রাতভর গোলাগুলির জেরে তোরখাম সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; বিভিন্ন স্থানে যানচলাচল ও বানিজ্য কার্যক্রমে তীব্র বিঘ্ন ঘটেছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জোনগুলোতে সেনা মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে বলে পাক সূত্র জানায়।
বিশ্বমঞ্চে বা স্বাধীন সংবাদ সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে এখনই যে কোনো পক্ষের সব দাবিই প্রমাণিত নয়—তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও প্রতিবেদনকারীরা তৎপর রয়েছেন। ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া অনুপযোগী বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।
Leave a comment