ভারতে বসে বাংলাদেশি নারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্য নিয়ে লেখা লিখছি। নারী বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো চতুর্থ আম্পায়ারের ভূমিকায় আছি। মাঠে মনোযোগ, টিভি পর্দায় নজর, প্রতিটি সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা—সবই প্রশংসার যোগ্য।
কিন্তু এটি কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এটি বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ার দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। আমাদের মেয়েরা এখন প্রতিটি স্টেডিয়ামে আলোকিত করছে। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, শুটিং, সাঁতার—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক স্তরে দেশকে পরিচিত করেছে।
২০১৮ সালে নারীদের টি-২০ এশিয়া কাপ জয়ে বাংলাদেশের কন্যারা ইতিহাস লিখেছিল। ফুটবলে ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফল্য, অনূর্ধ্ব-২০ এবং অনূর্ধ্ব-১৬ দল এশিয়ার চূড়ান্ত পর্বে খেলার গৌরব—সবই মেয়েদের সক্ষমতার প্রমাণ। এসএ গেমসে ২৬টি সোনা এসেছে নারীদের হাত ধরে, যা প্রমাণ করে সাম্প্রতিক সময়ে তারা কত দ্রুত এগিয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন লড়াই। পরিবার, সমাজ ও প্র federations এর বৈষম্য, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, কোচিং ও চাকরির নিরাপত্তাহীনতা—সবই এখনো নারীদের পথে প্রতিবন্ধক। অনেক মেয়ের ক্যারিয়ারই বাচ্চা জন্ম, বিয়ে বা পরিবারের সমর্থনের অভাবে থেমে যায়।
বাংলাদেশে ক্রিকেটে সম্প্রতি ভাতা সমান হয়েছে, কিন্তু ফুটবল ও অন্যান্য খেলায় পুরুষদের তুলনায় আয় এখনো অনেক কম। ঘরোয়া লিগের অভাব, পুরুষ প্রধান কোচিং স্টাফ, সুযোগ-সুবিধার সীমিততা—সবই নারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবুও লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ছোটবেলায় স্কুলে ক্রিকেট টিম গড়ে তোলার মতো উদ্যম থেকে শুরু করে এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে নাম লেখা পর্যন্ত নারীদের গল্প অনুপ্রেরণামূলক। লেখক আশা করেন, সময়ের সঙ্গে প্রজন্ম, মনোভাব ও সুযোগ বদলাবে। মাঠে লড়াই ও ঘামের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, নারীরা যোগ্য এবং সক্ষম। প্রয়োজন শুধু সমান সম্মান ও সুযোগ।
Leave a comment