পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে চলছে ভয়ঙ্কর খেলা। নীরবতার আড়ালে তৈরি হচ্ছে এক মারাত্মক শক্তি—যাদের হাতে এখন যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য ব্যবহৃত মারনাত্তক সব অস্ত্র।
খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি — তিন পার্বত্য জেলা এখন আর শুধুই প্রকৃতির রঙ-রসের ঠিকানা নয়। পাহাড়ের নীরব জঙ্গলে এমন একটি অন্ধকার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য নিঃসন্দেহে বড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। গোয়েন্দা-বাহিনী, পুলিশ ও মিলিটারি সূত্র একাধিকবার জানিয়েছে — পাহাড়ে রাখা আছে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত মারাত্মক আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র; তাদের লক্ষ্য একটাই — তিন পার্বত্য জেলা মিলিয়ে ‘স্বাধীন জুম্মল্যান্ড’ গঠন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে অনুসারে প্রতিবছর পাহাড় থেকে আদায় হচ্ছে শত শত কোটি টাকার চাঁদা। এই টাকা অস্ত্র কেনার জন্য খরচ হচ্ছে। সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আধুনিক গ্রেনেড লঞ্চার, AK 47 , M-16 কারবাইন, স্নাইপার রাইফেল, রকেট লঞ্চার, এমনকি বিমানবিধ্বংসী সরঞ্জামও।
প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যগুলো বলছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারের মুল রুটগুলো হচ্ছে:
মায়ানমার হয়ে লামা অতপর আলীকদম হয়ে বান্দরবান কিংবা রাঙ্গামাটি রুট এরপর চলে যায় গভীর জংগলে
পাশাপাশি ভারতের মিজোরাম এবং ত্রিপুরা হয়ে থানচি, বড়থলি, বিলাইছড়ি রুট দিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ি আড্ডায় পৌছায় এই অস্ত্র।
স্থানীয় পাহাড়ি, ভারতীয় দালাল চক্র এবং পুরনো গেরিলা-নেটওয়ার্ক সক্রিয় এই লেনদেনে।
স্থানীয় কিছু সূত্রে ধরা পড়েছে ভারতীয় রুপি ব্যবহিত হচ্ছে এই আদানপ্রদানে।
গত ১৫ জানুয়ারি: এক অভিযানে দাবি করা হয় — ৪০ মিলিমিটার গ্রেনেড লঞ্চার, দুটি M-16, তিনটি AK 47, দশটি গ্রেনেড ও হাজার মিলিমিটার রাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে বান্দরবান এলাকায় এক চল্লিশটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে সেমি-অটোমেটিক এসএমজি, রাইফেল, গ্রেনেডজাতীয় সরঞ্জাম ও।
আইএসপিআর জানাচ্ছে—দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তি-সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র দমন—দুটিই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
পরিশেষে বলা যায়,
বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চল এখন আর শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি নয়—বরং হয়ে উঠছে এক “বিস্ফোরক টাইমবোমা”। যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, আগামী কয়েক বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিণত হতে পারে দেশের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতার কেন্দ্রে।
Leave a comment