আজ ৪ নভেম্বর চলচ্চিত্রের মহানায়ক ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী। মৃত্যুর পর তার কাজ আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’সহ তার চলচ্চিত্রে সত্য, শিবম ও সৌন্দর্যের অনন্য সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে। শিল্পের প্রতি সততা, দেশপ্রেম এবং মানুষের জীবনের সাথে সম্পৃক্ততা ছিল তার দর্শনের মূল।
ঋত্বিক ঘটক বেঁচেছিলেন মাত্র ৫০ বছর। জীবদ্দশায় তার শিল্পকর্মের যথাযথ কদর পাওয়া যায়নি। স্ত্রী সুরমা ঘোটক তাঁর বই ঋত্বিক-এ লিখেছেন, “বহুদিন শুনেছি, ‘লক্ষ্মী! টাকাটা তো থাকবে না, কাজটা থাকবে, তুমি দেখে নিয়ো, আমি মারা যাবার পর সবাই আমাকে বুঝবে।’”
ঘটক বিশ্বাস করতেন, সত্য, শিবম এবং সৌন্দর্যই সর্বশিল্পের মূল। তিনি বলতেন, “ভালো করে তাকিয়ে দেখুন, প্রথমে সত্য। সত্য সিদ্ধ না হলে কোনো শিল্পই শিল্পের পর্যায়ে ওঠে না।” তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দেশ, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং সামাজিক বাস্তবতার গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র যেমন মেঘে ঢাকা তারা, তিতাস একটি নদীর নাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি শিল্পকে দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। ঘটকের মতে, শিল্পের প্রাথমিক শর্ত হল সততা—নিজের অনুভূতি এবং উপলব্ধির সৎ প্রকাশ।
শিল্প ও চলচ্চিত্রের প্রতি তার এই দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। মৃত্যুর পরও তাঁর কাজ শিক্ষণীয় এবং নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রকারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
Leave a comment