কতটা নির্মম হলে শিশু, নারী ও যুদ্ধাহত দের জন্য নিয়ে যাওয়া ত্রান আটকে দিতে পারলো ইসরায়েল বাহিনী।
৪২টি ত্রাণবাহী জাহাজ নিয়ে গঠিত গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের মধ্যেই, একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার উদ্যোগ হিসেবে । যার মূল লক্ষ্য ছিলো সকল অবরোধ ভেঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো।
জাহাজগুলো রওনা শুরু করেছিল আগস্ট–সেপ্টেম্বর মাসে। জেনোয়া, বার্সেলোনা, টুনিস এবং সিসিলি থেকে শুরু করে।
বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন জাতির মানুষ অংশ নিয়েছিল এই যাত্রায় — নাগরিক কর্মী, ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, আইনজীবী, চিকিৎসক — প্রায় ৪৪টি দেশের থেকে প্রায় ৫০০ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এই জাহাজগুলোতে ছিল শিশুদের জন্য দুধ ও শুকনো খাবার, যুদ্ধাহত মানুষের জন্য ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, গৃহহারা পরিবারগুলোর জন্য কম্বল, ত্রিপল ও জরুরি সহায়তা সামগ্রী।
কিন্তু ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে এগুলো গাজা উপত্যকায় পৌঁছাতে পারল না। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন—
“এটা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা হলো মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর অপরাধ। শিশুদের মুখের খাবার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
এই বিষয়ে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে—“এমনকি যুদ্ধেরও কিছু নিয়ম আছে, কিন্তু এখানে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না।”
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন: “শিশু ও নিরীহদের জন্য পাঠানো ত্রাণ যদি আটকে দেওয়া হয়, তবে মানবতার অস্তিত্ব কোথায়?”
ইসরায়েল দাবি করছে নিরাপত্তার জন্য এই অভিযান, কিন্তু বাস্তবতা হলো—গাজার রক্তাক্ত শিশুরা এখনও ক্ষুধার্ত, অসহায় মানুষগুলো এখনও ত্রান পাচ্ছে না।
এই ঘটনায় পরিষ্কার হয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু গোলাবারুদে নয়, মানবিক সহায়তার পথেও অবরোধের শেকল চাপিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল।
Leave a comment