কালো টাকার পাহাড় জমেছে দেশের অর্থনীতির অদৃশ্য স্তরে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত গোপন আর্থিক ধারায় এমন বিপুল পরিমাণ কালো অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়েছে, যা একদিকে বাজারে ফিরে আসছে নানা ফাঁকফোকর ঘেঁষে, অন্যদিকে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটা আর কোনো ছোটখাট কারবার নয়। সরকারি হিসাবেই দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এক লাফে প্রায় ২০,৫০০ কোটি কালো টাকা বৈধকরণের আওতায় আনা হয়েছিল—যা নিজেই ইঙ্গিত দেয় দেশের ভেতরে বিশাল অঙ্কের কালো সম্পদ সক্রিয়ভাবে ঘুরছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অবৈধ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে—ট্রেড মিসইনভয়সিং বা রেমিটেন্স চ্যানেল ব্যবহার করে। অর্থমন্ত্রকীয় সূত্র জানায়, অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণত তিনটি পথেই এই অর্থ সরায়—
প্রথমে কাগুজে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা বাজারে ঢুকিয়ে নেয়া,
তারপর রিয়েল এস্টেট বা শেল কোম্পানিতে এই টাকা লুকিয়ে রাখা,
শেষে আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশে পাচার করা।
২০২৪ সালের পর থেকে সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে দেখা গেছে—দেশ থেকে ৪০,০০০ কোটি টাকার বেশি অর্থের গতিপথ নিয়ে সন্দেহ উঠেছে, যার সামান্য অংশই বিদেশে ট্রেস করা সম্ভব হয়েছে। এনবিআরও স্বীকার করেছে—আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সম্পদ উদ্ধার কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অন্যদিকে বিদেশে পাচারের সবচেয়ে সংবেদনশীল চ্যানেল হলো ট্রেড মিসইনভয়সিং। আমদানি-রপ্তানি নথিতে দাম বদলে দিয়ে বা পণ্যের পরিমাণে কারসাজি করে বিদেশে টাকা সরানো হয়। এর সঙ্গে হুন্ডি ও অফশোর কোম্পানির নেটওয়ার্ক যুক্ত হয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে করে তোলে আরও জটিল ও অদৃশ্য।
সরকার বলছে—তারা বিষয়টি জানে এবং পদক্ষেপও নিচ্ছে। এনবিআর, কাস্টমস ও ব্যাংকিং সংস্থাগুলো তথ্য বিনিময় বাড়াচ্ছে; আন্তর্জাতিক ডাটা-শেয়ারিং এবং নজরদারিও জোরদার হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা—যতদিন ‘ওয়াইটেনিং’ ধাঁচে ছাড় দেওয়া হবে, ততদিন কালো অর্থের প্রবাহ থামানো যাবে না।
শেষে একটাই প্রশ্ন রয়ে যায়—
এই বিপুল টাকা কারা লুকাচ্ছে? কেন তাদের ধরা হচ্ছে না? উত্তর খুঁজবে জনগণ, খুজবো আমরা সবাই মিলে।
Leave a comment