সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাখ্যা দিয়েছে। সচিব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদগুলো বিধিমালা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে বৈষম্য সৃষ্টি হবে এবং প্রকল্পটি কার্যকর ফল দেবে না। পরবর্তীকালে অর্থের সীমাবদ্ধতা কমলে সব স্কুলে এ ধরনের পদ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের ব্যাখ্যা: কেন বাতিল?
আজ মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র আড়াই হাজার ক্লাস্টারে (প্রতি ক্লাস্টারে একজন করে) এই শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল প্রাথমিক পরিকল্পনায়। কিন্তু সচিব কমিটি মনে করে:
| যুক্তি | বিস্তারিত |
|---|---|
| অকার্যকরতা | অল্প সংখ্যক শিক্ষক (২,৫০০ জন) প্রাথমিক শিক্ষায় কোনো উল্লেখযোগ্য সুবিধা আনবে না। একজন শিক্ষককে ২০টির বেশি স্কুলে যুগপৎ দায়িত্ব পালন করতে হবে, যা সময় ব্যবস্থাপনায় অসম্ভব। |
| বৈষম্য সৃষ্টি | সব স্কুলে সমানভাবে প্রয়োগ সম্ভব নয়; ক্লাস্টারভিত্তিক বিন্যাসে অসমতা তৈরি হবে। |
| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | অর্থের সংস্থান বাড়লে সব স্কুলে এই বিষয়ের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ বিবেচনা করা যাবে। |
আরও পড়ুন: প্রাথমিকে সংগীত-শারীরিক শিক্ষক নিয়োগ বাতিল: ১ লাখ ৩১ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ হারালো শিক্ষার্থীরা
পটভূমি: রাজনৈতিক চাপ ও বিধিমালা সংশোধন
গত ২৮ আগস্ট জারি ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এ চার ধরনের পদ ছিল: প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক (সংগীত) ও সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা)। এতে ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো (জামায়াতসহ) সংগীতের বদলে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলে আন্দোলনের হুমকি দেয়। এর ফলে গত রোববার (৩ নভেম্বর) বিধিমালা সংশোধন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার পদ বাতিল করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এটি গেজেটে প্রকাশ করে।
গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার পর সরকার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি সচিব কমিটির সুপারিশভিত্তিক এবং রাজনৈতিক চাপের ফল নয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে শিক্ষা ব্যবস্থার বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া: উদীয়মান বিরোধিতা
- শিক্ষাবিদরা: বাতিল সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বাধা। পরে পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি অস্পষ্ট।
- ধর্মীয় গোষ্ঠী: সংগীত শিক্ষা ‘ইসলামবিরোধী’ বলে দাবি করে সন্তুষ্ট।
- সমাজবিদরা: এটি রাজনৈতিক চাপে শিক্ষানীতির পতনের উদাহরণ।
সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অর্থায়নের উপর নির্ভর করে পদ পুনর্বহালের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা হবে।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় চাপে শিক্ষা নীতির পরিবর্তন: বিশেষজ্ঞদের মতামত
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র]
Leave a comment