নাম তাঁর মুজাহিদ আবদুল্লাহ, কিন্তু সবাই চেনে শুধু ‘মুজা’ নামে। ফোক ও আধুনিক সংগীতের মিশ্রণে নিজস্ব এক ধারা তৈরি করেছেন এই তরুণ গায়ক। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি এখন পরিচিত এক ভিন্নধর্মী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে।
সিলেটে জন্ম নেওয়া মুজা ছোটবেলাতেই পরিবারসহ চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। মাত্র চার বছর বয়সেই দেশ ছাড়তে হয় তাঁকে। বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা—সবই বিদেশে। ক্রিস ব্রাউন ও অন্যান্য পপ তারকার গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই সংগীতের জগতে প্রবেশ করেন। শুরুতে প্রোডাকশনেই কাজ করতেন বেশি, পরে নিজেই কণ্ঠ দেওয়া শুরু করেন। তাঁর আলোচিত গান ‘বন্ধুরে’ তাঁকে শ্রোতাদের কাছে এনে দেয় নতুনভাবে। এরপর ‘নয়া দামান’ গান দিয়ে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
বিদেশে বড় হলেও মুজার মন পড়ে আছে বাঙালি খাবারে। ভাত, ডাল আর আলুভর্তা—এই তিনেই তাঁর তৃপ্তি। কিন্তু ঢাকায় এসে যেন রসনা পায় নতুন স্বাদ। কাজের সূত্রে রাজধানীতে প্রথমবার এসেই পুরান ঢাকার বিখ্যাত তেহারির প্রেমে পড়েন তিনি।
মুজা হাসতে হাসতে বললেন,
“একদিন টিমের সবাই বলল, ‘তুমি এখনো পুরান ঢাকার তেহারি খাওনি!’ সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে গেল ‘তেহারি ঘর’-এ। প্রথম কামড়েই প্রেমে পড়ে যাই। এরপর ঢাকায় থাকলে আমার বাসায় তেহারি না থাকলেই নয়।”
তবে এখন সেই প্রিয় খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন মুজা। কারণ, নিজেকে রাখতে চান ফিট ও হেলদি।
তাঁর ভাষায়,
“দেখছিলাম ওজন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিই, খাদ্যাভ্যাস পুরো পাল্টে ফেলব। এখন দিনে মাত্র একবার খাই, তেল-চর্বি পুরো বাদ।”
এই পরিবর্তনের ফলও পেয়েছেন তিনি—গত কয়েক মাসে ওজন কমিয়েছেন প্রায় ১৫ কেজি। এখন তাঁর পুরো মনোযোগ সংগীতে। সম্প্রতি তাঁর গান জায়গা পেয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘EA Sports 26’–এর প্লেলিস্টে।
বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছেন মুজা, নিজের নতুন গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আগামী ৮ নভেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর সর্বশেষ গানটি—যা নিয়ে বেশ আশাবাদী এই তরুণ সংগীতশিল্পী।
Leave a comment