Tuesday , 13 January 2026
শিরোনাম
Home আরও লাইফস্টাইল পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পেতে কখন, কতক্ষণ ও কীভাবে রোদে থাকবেন?
লাইফস্টাইল

পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পেতে কখন, কতক্ষণ ও কীভাবে রোদে থাকবেন?

Share
Share

আমরা সবাই জানি, সূর্যের আলো ভিটামিন ডির প্রধান উৎস। কিন্তু অনেকেই ভাবেন—রোদে কখন থাকা ভালো, কতক্ষণ থাকা উচিত, কিংবা সপ্তাহে কতদিন রোদে গেলেই যথেষ্ট হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার আগে আসুন জেনে নিই, আসলে ভিটামিন ডি কী এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন ডি কীভাবে কাজ করে

ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। এটি ক্যালসিয়াম শোষণ করে হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে, পেশিকে শক্তিশালী করে এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। সূর্যের আলো থেকে পাওয়া ভিটামিন ডিকে অনেকেই বলেন “সানশাইন ভিটামিন”।
যখন সূর্যের আলো ত্বকে পড়ে, তখন ত্বকের কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। এরপর এটি রক্তের মাধ্যমে লিভার ও কিডনিতে গিয়ে সক্রিয় রূপে কাজ শুরু করে।

ভিটামিন ডির অভাবে কী হয়

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ভিটামিন ডির ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের মধ্যে এটি রিকেটস বা হাড় বাঁকা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে অস্টিওপরোসিস, অস্টিওম্যালাসিয়া, হার্টের অসুখ বা এমনকি কিছু ক্যানসারের ঝুঁকিও। তাছাড়া যাঁরা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগেন, তাঁদের শরীরে ডির ঘাটতি থাকলে আরোগ্য পেতে সময় বেশি লাগে।

কোন সময়ের রোদ সবচেয়ে কার্যকর

যখন দেখবেন আপনার ছায়া আপনার উচ্চতার চেয়ে ছোট—সেই সময়টিই ভিটামিন ডি তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে রোদে থাকা সবচেয়ে কার্যকর। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ১০–৩০ মিনিট রোদে থাকা উচিত।

ত্বকের রঙ ও ভিটামিন ডি তৈরির সম্পর্ক

ত্বকের রঙ নির্ভর করে মেলানিন নামক পদার্থের ওপর। যাঁদের ত্বকে মেলানিন বেশি, তাঁদের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হতে তুলনামূলক ধীর হয়। তাই শ্যামলা বা গাঢ় রঙের মানুষদের অন্তত ৩০ মিনিট রোদে থাকা উচিত। অপরদিকে ফরসা ত্বকের জন্য ১০–২০ মিনিটই যথেষ্ট। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সময় একটু বাড়ানো দরকার।
পোশাক ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকে রোদ কম লাগে, ফলে ডি তৈরিতে বাধা পড়ে। তাই মাঝে মাঝে সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে যাওয়া উচিত, বিশেষ করে হাত-পা ও শরীরের কিছু অংশ যেন খোলা থাকে।

ছয় দিন রোদে থাকলে কি সারা বছরের চাহিদা পূরণ হবে?

সূর্য থেকে পাওয়া ভিটামিন ডির কিছু অংশ শরীরের চর্বিতে জমা থাকে। তবে এটি সারা বছরের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। নিয়মিতভাবে সপ্তাহে দুই-তিন দিন রোদে থাকা এবং খাবারের মাধ্যমে ডি গ্রহণ করলেই শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে।

শেষ কথা

প্রতিদিন সামান্য রোদে থাকলে যেমন ভিটামিন ডির ঘাটতি দূর হবে, তেমনি মনও থাকবে প্রফুল্ল। যদি তারপরও শরীরে ডির ঘাটতির লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ঘুষকাণ্ডের অভিযোগে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে দুদকের আকস্মিক অভিযান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ রবিবার হঠাৎ অভিযান চালায়। সংস্থাটির এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের...

টানা তিন মাসে রপ্তানি খাতে ধস, তৈরি পোশাকেই বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎসগুলোর একটি পণ্য রপ্তানি খাত টানা তিন মাস ধরে নিম্নমুখী। অক্টোবর মাসে দেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮২ কোটি...

Related Articles

পুরান ঢাকার তেহারি ভালোবাসেন মুজা, কিন্তু এখন মুখেও তোলেন না কেন

নাম তাঁর মুজাহিদ আবদুল্লাহ, কিন্তু সবাই চেনে শুধু ‘মুজা’ নামে। ফোক ও...

কালিন্দীর পাটের ব্যাগে মাসিক আয় ৮ লাখ: ব্যবহৃত উপকরণ থেকে ফ্যাশনের জন্ম

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরে অবস্থিত কালিন্দীর কারখানায় ১৩ জন শ্রমিকের দক্ষ হাতে...