নতুন চাকরির প্রস্তাব পেয়ে আনন্দিত হওয়া স্বাভাবিক। ফোনে ‘জব অফার’ নোটিফিকেশন পেলে উত্তেজনা বাড়তেই পারে। তবে ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আবেগে ভেসে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলে পরে হতাশা, অসন্তুষ্টি বা চাকরি ছাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই ১০টি বিষয় খুঁটিয়ে দেখা জরুরি।
১. বেতন – মাসিক, সাপ্তাহিক বা ঘণ্টাভিত্তিক বেতন কতো হবে, কর কাটার পর হাতে কত টাকা পাবেন, তা যাচাই করুন। বোনাস, কমিশন ও পারফরম্যান্স ইনসেনটিভও বিবেচনা করুন।
২. সুবিধা – স্বাস্থ্যবিমা, পেনশন, ছুটি, শিশু যত্ন, অফিসে খাবারের সুবিধা—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি। কখনও কখনও এসব সুবিধা মূল বেতনের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
৩. যাতায়াত ও অবস্থান – দৈনিক অফিস যাতায়াতের সময় কত লাগবে, তা দেখুন। দীর্ঘ যাতায়াত শুধু ক্লান্তি নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।
৪. কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য – নতুন চাকরিতে আপনার ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের ভারসাম্য কেমন হবে, তা মূল্যায়ন করুন। ফ্লেক্সিবল সময়, রিমোট বা হাইব্রিড কাজের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।
৫. ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার বৃদ্ধির সুযোগ – চাকরির সময় প্রতিষ্ঠান কতটা পদোন্নতি দেয়, প্রশিক্ষণ বা মেন্টরশিপের সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখুন।
৬. প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ও সুনাম – চাকরির নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কতটা স্থিতিশীল তার ওপর নির্ভর করে। পরিচিতজনদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সম্পর্কে জানুন।
৭. দায়িত্ব ও কাজের প্রকৃতি – নতুন পদের দায়িত্ব, দৈনিক কাজের ধরন, অতিরিক্ত দায়িত্ব ও ভ্রমণের প্রয়োজন আছে কি না, তা বুঝে নিন।
৮. টিম ও নেতৃত্ব – সহকর্মী ও সুপারভাইজারের সঙ্গে মিল-অমিল, নেতৃত্বের ধরন ও দলের কাজের পরিবেশ যাচাই করুন।
৯. প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি – প্রতিষ্ঠান কি আপনার মূল্যবোধ ও কাজের ধরনের সঙ্গে মিলে, তা দেখুন। বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি ও সহায়তামূলক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।
১০. চাকরির নিরাপত্তা – কোনো চাকরিই শতভাগ নিরাপদ নয়। তবে শিল্প বা পেশার স্থিতিশীলতা যাচাই করে চাকরি গ্রহণ করা উচিত।
নতুন চাকরির প্রস্তাব পেলে অনেকেই তাত্ক্ষণিক আনন্দে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সঠিক বেতন, সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত, কাজের প্রকৃতি ও কোম্পানির সুনাম যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিলে চাকরি গ্রহণ আরও ফলপ্রসূ হয়।
Leave a comment