চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের বিদেশি ঋণছাড়ে শীর্ষে রয়েছে বিশ্বব্যাংক ও রাশিয়া। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই সময়ে বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৩২ কোটি ২২ লাখ মার্কিন ডলার, আর রাশিয়া দিয়েছে ৩১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।
রাশিয়ার দেওয়া অর্থ মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ। অন্যদিকে, চীন থেকে এই তিন মাসে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি— যা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কারা কত ঋণ দিয়েছে
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ঋণছাড়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), যা দিয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এরপর ভারত দিয়েছে ৬ কোটি ডলার এবং জাপান দিয়েছে ৪ কোটি ডলার।
সব মিলিয়ে জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা দিয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে একই সময়ে বাংলাদেশকে আগের ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১২৮ কোটি ডলার, অর্থাৎ ঋণ পরিশোধই ছাড় পাওয়া অর্থের চেয়ে বেশি।
ঋণ শোধে বাড়ছে চাপ
ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, তিন মাসে বিদেশি ঋণের মধ্যে ৮২ কোটি ডলার আসল এবং ৪৬ কোটি ডলারের বেশি সুদ পরিশোধ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিশোধের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১২ কোটি ডলার।
এই সময়ে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ৯১ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের গতি বৃদ্ধি এবং নতুন ঋণ ছাড়ে ধীরগতি ভবিষ্যতে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়াতে পারে।
চীনের সহায়তা বন্ধ কেন?
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চীনের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি প্রকল্পে প্রশাসনিক জটিলতা ও কাগজপত্রের বিলম্বের কারণে জুলাই–সেপ্টেম্বরে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন চলছে।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের চিত্র দেখাচ্ছে— বিদেশি সহায়তা আসছে সীমিত পরিমাণে, কিন্তু ঋণ পরিশোধের দায় দ্রুত বেড়ে চলেছে।
Leave a comment