রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ রবিবার হঠাৎ অভিযান চালায়। সংস্থাটির এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডলারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদকের সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ডলারে ঘুষ নেন ইপিবির এক কর্মকর্তা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইপিবি আয়োজিত আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ওই কর্মকর্তা অনুমোদন ছাড়াই বিদেশি মুদ্রায় অর্থ নিয়েছেন।
ঘটনার পর ইপিবি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং উল্লেখ করা হয়, “ইপিবির অনুমোদন ছাড়া ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জামানত বাবদ ১৫০ ডলার করে নেওয়া হয়েছে।”
দুদকের তৎপরতা
ইপিবির নিষ্ক্রিয়তার পর দুদক সম্প্রতি বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করে। আজ ওই দলের সদস্যরা ইপিবির সদর দপ্তরে গিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালান। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে পে–অর্ডার জমা দিয়েছিল, অভিযুক্ত উপপরিচালক তা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের কাছে রেখেছিলেন আত্মসাতের উদ্দেশ্যে।
দুদক কর্মকর্তারা এসব পে–অর্ডার উদ্ধারের চেষ্টা করেন, তবে উদ্ধার কার্যক্রমে তারা কতগুলো পে–অর্ডার হাতে পেয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইপিবির অবস্থান
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, “আমাদের এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে। দুদকের তিন সদস্যের একটি দল বিষয়টি যাচাই করতে আজ আমাদের কার্যালয়ে এসেছে। আমরা প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথি সরবরাহ করেছি। বিষয়টি এখন অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে।”
ইপিবি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের আগস্টে চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এক মেলায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জামানত নেওয়া হয়েছিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হবে।
Leave a comment