নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই তালসড়ক প্রকৃতির সৌন্দর্য আর গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়।
অক্টোবরের প্রথম দিকে বগুড়া ভ্রমণের সময় চোখে পড়েছিল এই তালসড়কের কথা। স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ার পারভেজ জানান, “বগুড়া থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার যাত্রা। ঘুরে আসুন।” তাই আমরা সোহেল রানার বাগান থেকে শুরু করে এই মনোমুগ্ধকর পথে পৌঁছাই।
সড়কের দুই পাশে সুশোভিত তালগাছের সারি, পাশের ফসলের মাঠ আর দূরে ছড়িয়ে থাকা গ্রাম—সবমিলিয়ে এক নির্জন ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। দুপুরেও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর এই পথ, শুধু রাজশাহী নয়, দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক এখানে আসেন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে কয়েক লাখ তালগাছ রোপণ করা হয়েছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক গাছ হারিয়েছে। ঘুঘুডাঙ্গার এই তালগাছগুলো এখনও ৫০–৬০ ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে।
আগে এই সড়কটি মেঠোপথ ছিল; ২০১২ সালে এটি পাকা করা হয়। বর্তমানে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের মাঝে সড়কটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ভাদ্র মাসে তাল পাকার মৌসুমে এখানে উৎসবও আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন স্বাদের তালের পিঠা প্রধান আকর্ষণ।
তালগাছ শুধু বরেন্দ্র নয়, দেশের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে আছে। খেতের আলপথ, বাড়ির সীমানা, খালপাড় বা পুকুরপাড়ে এসব গাছ প্রকৃতিতে ভিন্ন রূপ ও সৌন্দর্য যোগ করেছে। দক্ষিণ ভারতে তালগাছের রস থেকে গুড় ও মিছরি তৈরি হয়; বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে তালের গুড় তৈরি সম্ভব, তবে সঠিক উদ্যোগ ও সহায়তার প্রয়োজন।
Leave a comment