Tuesday , 13 January 2026
শিরোনাম
Home আরও লাইফস্টাইল কালিন্দীর পাটের ব্যাগে মাসিক আয় ৮ লাখ: ব্যবহৃত উপকরণ থেকে ফ্যাশনের জন্ম
লাইফস্টাইল

কালিন্দীর পাটের ব্যাগে মাসিক আয় ৮ লাখ: ব্যবহৃত উপকরণ থেকে ফ্যাশনের জন্ম

Share
Share

ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরে অবস্থিত কালিন্দীর কারখানায় ১৩ জন শ্রমিকের দক্ষ হাতে জন্ম নেয় প্রতি মাসে ১,২০০ থেকে ৩,০০০টি ব্যাগ। এগুলোর প্রায় ৭৫% তৈরি ব্যবহৃত বা অবশিষ্ট পাট দিয়ে, যা অপরাজেয় লিমিটেডের রপ্তানি কারখানা থেকে সংগ্রহ করা হয়। ২০২১ সালে স্বামী কাজী মো. মনির হোসেনের সঙ্গে মিলে এই ব্র্যান্ড শুরু করেন উদ্যোক্ত্রী মুনিয়া জামান। আজ শুধু ব্যাগ বিক্রি দিয়েই মাসিক আয় ৮ লাখ টাকা।

উদ্যোগের উৎস: অব্যবহৃত পাটের নতুন জীবন

২০১৩ সাল থেকে পাটের ব্যাগ রপ্তানি করে আসছে অপরাজেয় লিমিটেড। কারখানায় ব্যাগ তৈরির সময় অবশিষ্ট থেকে যায় অনেক পাট। এগুলোকে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে জন্ম নেয় কালিন্দী – একটি সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যাগ ব্র্যান্ড। মুনিয়া জামান বলেন,

“বিদেশে আমাদের পাটের ঝোলা ব্যাগ নকশা করে লুটছে, কিন্তু দেশে সেগুলোর ক্রেতা নেই। কারণ? একঘেয়ে ডিজাইন ও আধুনিকতার অভাব। আমরা চাইলাম, সোনালি আঁশকে ফ্যাশনেবল করে দেশীয় বাজারে আনতে।”

কালিন্দী অপরাজেয় লিমিটেডের সহায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করে। শুরুতে পাটের ব্যাগের ধারণা পরিবর্তন করতে মুনিয়া নিজে নকশা তৈরি করেন। বর্তমানে চামড়ার ব্যাগও তৈরি হয়, কিন্তু পাটই মূল ফোকাস।

নদীর নামে ব্র্যান্ড, ব্যাগে নদীর গল্প

পাট ও নদীর অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক থেকে নির্বাচিত হয়েছে ব্র্যান্ডের নাম – কালিন্দী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৫৫ কিমি দীর্ঘ নদী। প্রতিটি ব্যাগের নাম দেশের নদীতে নামকরণ করা: হালদা, চিত্রা, বাউলাই, ইছামতী, রূপসা, ভৈরব, ভদ্রা ইত্যাদি। মুনিয়া বলেন,

“প্রতি নতুন নকশায় একটি নদী যুক্ত হয়। ১০০ নকশা হলে ওয়েবসাইটে ১০০ নদীর গল্প থাকবে। এতে ক্রেতারা শুধু ব্যাগ কেনেন না, একটি ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠেন।”

আধুনিক নকশা: সবার জন্য পাট

কালিন্দীর ব্যাগগুলোতে আধুনিক রং, ট্রেন্ডি ডিজাইন ও ক্রেতার পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত। নারীদের পার্স-হ্যান্ডব্যাগ থেকে পুরুষদের শোল্ডার ব্যাগ, সবার জন্য ল্যাপটপ ব্যাকপ্যাক – সবই পাওয়া যায়। দাম হাতের নাগালে রাখতে অবশিষ্ট পাট ব্যবহার করা হয়, যা উৎপাদন খরচ কমায়। মুনিয়া বলেন,

“দেশে পাটের ব্যাগের বৈচিত্র্য কম এবং দাম বেশি। আমরা ফ্যাশনেবল করে সাশ্রয়ী করে আনতে চাই। এখন চামড়ার ব্যাগও যুক্ত হয়েছে, কিন্তু পাটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।”

সাফল্যের পথ: অনলাইন থেকে অফলাইন

শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্রি, এখন নিজস্ব ওয়েবসাইট। ২০২২ সালে বনানীর ‘যাত্রা’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে অফলাইন উপস্থিতি বাড়ে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফরমাশও পূরণ হয়। মুনিয়া বলেন,

“ক্রেতারা প্রথমে মান যাচাইয়ে অফলাইনে আসতেন, এখন অনলাইনেও আস্থা গড়ে উঠেছে। দেশি পণ্যের প্রতি আগ্রহ কম নয়, শুধু আধুনিকতা চাই।”

বর্তমানে মাসিক আয় ৮ লাখ টাকা। লক্ষ্য: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ঘুষকাণ্ডের অভিযোগে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে দুদকের আকস্মিক অভিযান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ রবিবার হঠাৎ অভিযান চালায়। সংস্থাটির এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের...

টানা তিন মাসে রপ্তানি খাতে ধস, তৈরি পোশাকেই বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎসগুলোর একটি পণ্য রপ্তানি খাত টানা তিন মাস ধরে নিম্নমুখী। অক্টোবর মাসে দেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮২ কোটি...

Related Articles

পুরান ঢাকার তেহারি ভালোবাসেন মুজা, কিন্তু এখন মুখেও তোলেন না কেন

নাম তাঁর মুজাহিদ আবদুল্লাহ, কিন্তু সবাই চেনে শুধু ‘মুজা’ নামে। ফোক ও...

পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পেতে কখন, কতক্ষণ ও কীভাবে রোদে থাকবেন?

আমরা সবাই জানি, সূর্যের আলো ভিটামিন ডির প্রধান উৎস। কিন্তু অনেকেই ভাবেন—রোদে...