তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব হলো একধরণের শাস্ত্র যা বিভিন্ন ধর্মের উৎস, ইতিহাস, নীতিমালা, মিল ও অমিল নিয়ে আলোচনা করে। মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মের প্রকৃতি বোঝা এবং তার অনুসারীদের চিন্তা ও বিশ্বাসের গভীরে পৌঁছানো।
কারণ: ধর্ম হলো ব্যক্তিগত অনুভূতি। কিন্তু যখন সেই অনুভূতি প্রকাশ পায়, তখন একটি যৌক্তিক ও জাগতিক ভাষা প্রয়োজন হয়। এজন্য মুসলিম পণ্ডিতরা তাদের বিশ্বাসকে দার্শনিক রূপে উপস্থাপন করেছেন।
কোরআনের প্রভাব
- কোরআনই প্রথম ভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাস ও সম্প্রদায়ের বস্তুনিষ্ঠ পাঠ তুলে এনেছে।
- ইহুদি, নাসারা ও অন্যান্য ধর্মের দাবিকে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেছে।
- আহলে কিতাবদেরকে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ৬৪)
- মূর্তি পূজা, ফেরেশতাপূজা ও দাহরিয়াদের মতো অন্যান্য মতবাদকেও উল্লেখ করেছে।
প্রাচীন মুসলিম পণ্ডিতদের অবদান
- শাহরাস্তানি: ‘আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল’ গ্রন্থে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন।
- ইবনে হাযম: ‘আল-ফিসাল’ গ্রন্থে নিরপেক্ষ ও যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা করেছেন।
- আল-বেরুনি: হিন্দু ধর্ম ও ভারতের অন্যান্য ধর্মের সূক্ষ্ম ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ।
- নাওবাখতি, হুযালি, মিসবাহি, ইসফারায়েনি: বিভিন্ন গ্রন্থে ধর্মের ইতিহাস, নীতি ও তুলনামূলক আলোচনা।
- ইবনে তাইমিয়া ও ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়াহ: কোরআনের আলোকে খ্রিষ্টান ও ইহুদি মতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ।
ইসলামে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ইতিহাস
- ইসলামের আগেও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ছিল না, কারণ এক ধর্ম অন্য ধর্মকে স্বীকার করত না।
- মুসলিম পণ্ডিতরা হিজরি দ্বিতীয় শতক থেকে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা শুরু করেন।
- তারা ধর্মের মূল উৎস গ্রন্থ থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন, প্রচলিত কল্পনা বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর নয়।
আধুনিক যুগে দুটি ধারা
- দাওয়াতি বা প্রচারমূলক ধারা: গণমাধ্যম ও বিতর্কের মাধ্যমে ধর্ম প্রচার।
- উদাহরণ: শাইখ আহমাদ দিদাত, ড. জাকির নায়েক, মুহাম্মদ হিজাব।
- গবেষণাধারা: বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিভৃতে কাজ।
- উদাহরণ: ড. আহমাদ শালাবী, ড. মুহাম্মদ শারকাভী, ইসমাইল রাজি আল-ফারুকি।
মূল শিক্ষা
- মানুষের ধার্মিকতা সবচেয়ে প্রভাবশালী অনুভূতি।
- তার মন ও বিশ্বাস বোঝার প্রথম ধাপ হলো তার ধর্মকে জানা।
তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব মুসলিম সভ্যতার একটি অসাধারণ বৌদ্ধিক অর্জন।
Leave a comment