Tuesday , 13 January 2026
শিরোনাম
Home আন্তর্জাতিক ইউরোপে ইজ্রায়েল বিরোধী আন্দোলনে কম পক্ষে ১০০০ জন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আন্তর্জাতিক

ইউরোপে ইজ্রায়েল বিরোধী আন্দোলনে কম পক্ষে ১০০০ জন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Share
Share

রোম ও লন্ডনসহ ইউরোপীয় শহরগুলোতে গত শনিবার ইসরায়েল-বিরোধী সমাবেশ ও প্রচারণা চলে; হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানা্লে সেখানে হঠাত পুলিশি আক্রমন শুরু হয়। লন্ডনে কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ থেকে প্রায় ৪৯০–৪৯৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে পুলিশ জানায়, আর রোমে আয়োজকরা লাখ-লাখ মানুষের কথা বললেও স্থানীয় পুলিশ আয়োজনের সংখ্যা আনুমানিক ২৫০০০ বলেছে।


ইতালির রাজধানীতে দিনভর অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোর কিছু অংশ শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হলেও, কয়েক এলাকায় অ্যাকশনের সময় কিছু গ্রুপ পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রিক বিস্ফোরক এবং আতশবাজির মত জিনিস নিক্ষেপ করে—যার ফলে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয় এবং সংঘর্ষের খবর আসে। স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে—গতকালই এক সাধারণ ধর্মঘটের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক আড়ম্বর ছিল; আর এই আন্দোলনগুলোকে অনেক বিশ্লেষক গাজার মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অসন্তোষ হিসেবে দেখছেন।

অপরদিকে লন্ডনে একটি নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরু হলে মেট্রোপলিটন পুলিশ সেখানে আচমকা গ্রেফতার শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল গাজার মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ; তবু পুলিশের দ্রুত কড়া হস্তক্ষেপকে অনেকেই “অপব্যবহার” বলছেন।


রোম ও স্পেনের কয়েকটি শহরে বিশেষ করে সমুদ্রে সাহায্য বহনকারী ‘গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা’কে নানাভাবে আটক/নিরোধ করার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ flotilla-র অনেক কর্মী গ্রেপ্তার ও বহর আটক করেছে—এটি ইউরোপজুড়িয়ে প্রতিবাদের অগ্নি আরও তীব্র করেছে।
অনেক প্রতিবাদকারী ও কয়েকজন বিশ্লেষক সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন যে পশ্চিমা সরকার ও মিডিয়া সবসময় মানবাধিকারের কথা বলে কিন্তু যখন মুসলিম বা ফিলিস্থিন বাসীদের প্রতি সহিংসতা হয়, তখন তারা কেন চুপ হয়ে যায়?”—এমন অভিযোগও বিক্ষোভের মঞ্চে উচ্চারিত হয়েছে। তারা আরো বলেন পশ্চিমারা মানবতাকে গর্বের ইশতেহার করেন, কিন্তু যখন কেউ ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন তখন তাদের নিজস্ব নাগরিকদের পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। এই অভিযোগগুলো সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে।

সংগঠনগুলো বলছে—গাজার পরিবারগুলো পানীয় জল, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতিতে রয়েছে; শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নেই। এই মানবিক পরিস্থিতিই ইউরোপে এমন ব্যাপক সমর্থন তৈরি করেছে—অনেকে এটাকে “মানবিক ইমারজেন্সি” বলে আখ্যা দিচ্ছেন

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ঘুষকাণ্ডের অভিযোগে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে দুদকের আকস্মিক অভিযান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ রবিবার হঠাৎ অভিযান চালায়। সংস্থাটির এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের...

টানা তিন মাসে রপ্তানি খাতে ধস, তৈরি পোশাকেই বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎসগুলোর একটি পণ্য রপ্তানি খাত টানা তিন মাস ধরে নিম্নমুখী। অক্টোবর মাসে দেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮২ কোটি...

Related Articles

উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্র যা কিনা গুড়িয়ে দিতে পারে আমেরিকাকে।

পিয়ংইয়ংয়ের আকাশে আবারও ধ্বনিত হলো শক্তির প্রদর্শন। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী...

ফ্লোটিলা সমুদ্র গাজায় নিয়ে যাওয়া ত্রাণ ও আটকে দিলো ইসরায়েল

কতটা নির্মম হলে শিশু, নারী ও যুদ্ধাহত দের জন্য নিয়ে যাওয়া ত্রান...

গাজায় বোমাবর্ষণ “এখনই বন্ধ” করতে নির্দেশ ট্রাম্পের; ইরানের “১০ গুণ শক্তি”র হুশিয়ারি

গাজায় চলমান অভিযানে ইসরায়েলকে “অবিলম্বে” বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...

এবার ভারত থেকে আলাদা হতে চায় লাদাখ, ৫৪ জন ‘স্বাধীনতা-কামী’ আহত, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পেতে ভারতীয় রাজ্য লাদাখে সহিংস বিক্ষোভ—হতাহত ৫৪। বিজেপির কার্যালয়ে...