রোম ও লন্ডনসহ ইউরোপীয় শহরগুলোতে গত শনিবার ইসরায়েল-বিরোধী সমাবেশ ও প্রচারণা চলে; হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানা্লে সেখানে হঠাত পুলিশি আক্রমন শুরু হয়। লন্ডনে কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ থেকে প্রায় ৪৯০–৪৯৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে পুলিশ জানায়, আর রোমে আয়োজকরা লাখ-লাখ মানুষের কথা বললেও স্থানীয় পুলিশ আয়োজনের সংখ্যা আনুমানিক ২৫০০০ বলেছে।
ইতালির রাজধানীতে দিনভর অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোর কিছু অংশ শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হলেও, কয়েক এলাকায় অ্যাকশনের সময় কিছু গ্রুপ পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রিক বিস্ফোরক এবং আতশবাজির মত জিনিস নিক্ষেপ করে—যার ফলে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয় এবং সংঘর্ষের খবর আসে। স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে—গতকালই এক সাধারণ ধর্মঘটের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক আড়ম্বর ছিল; আর এই আন্দোলনগুলোকে অনেক বিশ্লেষক গাজার মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অসন্তোষ হিসেবে দেখছেন।
অপরদিকে লন্ডনে একটি নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরু হলে মেট্রোপলিটন পুলিশ সেখানে আচমকা গ্রেফতার শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল গাজার মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ; তবু পুলিশের দ্রুত কড়া হস্তক্ষেপকে অনেকেই “অপব্যবহার” বলছেন।
রোম ও স্পেনের কয়েকটি শহরে বিশেষ করে সমুদ্রে সাহায্য বহনকারী ‘গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা’কে নানাভাবে আটক/নিরোধ করার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ flotilla-র অনেক কর্মী গ্রেপ্তার ও বহর আটক করেছে—এটি ইউরোপজুড়িয়ে প্রতিবাদের অগ্নি আরও তীব্র করেছে।
অনেক প্রতিবাদকারী ও কয়েকজন বিশ্লেষক সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন যে পশ্চিমা সরকার ও মিডিয়া সবসময় মানবাধিকারের কথা বলে “কিন্তু যখন মুসলিম বা ফিলিস্থিন বাসীদের প্রতি সহিংসতা হয়, তখন তারা কেন চুপ হয়ে যায়?”—এমন অভিযোগও বিক্ষোভের মঞ্চে উচ্চারিত হয়েছে। তারা আরো বলেন পশ্চিমারা মানবতাকে গর্বের ইশতেহার করেন, কিন্তু যখন কেউ ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন তখন তাদের নিজস্ব নাগরিকদের পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। এই অভিযোগগুলো সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সংগঠনগুলো বলছে—গাজার পরিবারগুলো পানীয় জল, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতিতে রয়েছে; শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নেই। এই মানবিক পরিস্থিতিই ইউরোপে এমন ব্যাপক সমর্থন তৈরি করেছে—অনেকে এটাকে “মানবিক ইমারজেন্সি” বলে আখ্যা দিচ্ছেন
Leave a comment