বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আশাবাদী, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি অংশ নেবে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও মিরাজ মনে করেন, সময় ও ধারাবাহিক খেলার সুযোগ পেলে দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
মিরাজ বলেন, “আমরা দীর্ঘ বিরতিতে ওয়ানডে খেলছি। অনিয়মিত খেলার কারণে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছি। নিয়মিত সিরিজ খেলতে পারলে উন্নতি দ্রুত হয়।”
২০২৫ সালে অধিনায়ক হিসেবে ৯টি ম্যাচে তিনটি জয় পেয়েছেন তিনি। এ পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার জবাবে মিরাজের উত্তর, “আমি সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখি। কারণ মানুষ আমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা করে। আমি অধিনায়ক হওয়ার পর সমালোচনা বেড়েছে, কিন্তু এখন তা নিতে শিখেছি।”
সাম্প্রতিক আফগানিস্তান সিরিজে হোয়াইটওয়াশের কারণ হিসেবে মানসিক ক্লান্তিকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, “টি২০ এশিয়া কাপ শেষে খুব অল্প বিরতিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে হয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিল।”
ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, “নিয়মিত ওয়ানডে না খেলায় ব্যাটারদের ছন্দ নষ্ট হচ্ছে। টপঅর্ডারকে আরও সাহসী হতে হবে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে শিখতে হবে।”
তিনি মনে করেন, “উইকেট যেমনই হোক, মানিয়ে নেওয়াটাই স্মার্টনেস। ব্যাটাররা ভালো করলে বোলাররা স্বাধীনভাবে বোলিং করতে পারে।”
বোর্ডের সমর্থন নিয়েও আশাবাদী মিরাজ। “বিসিবি সভাপতি বুলবুল ভাই, সহসভাপতি ফারুক ভাই—সবাই সাহস জুগিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ জেতার পর দলের ভেতরে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে,” বলেন তিনি।
মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর অবসর দলের অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি করেছে বলে মনে করেন অধিনায়ক। তবে বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে তিনি আশাবাদী। “আমাদের দল অভিজ্ঞ। সৌম্য, তাসকিন, মুস্তাফিজ—সবাই বহুদিন ধরে খেলছে। এই দলটাকে এক সুতায় বাঁধতে পারলে ভালো ফল আসবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মিরাজ বলেন, “২০২৬ সালে বড় চারটি হোম সিরিজ আছে—অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এসব সিরিজে ভালো করলে র্যাঙ্কিং উন্নতি হবে। আমি বিশ্বাস করি, ২০২৭ সালে আমরা সরাসরি বিশ্বকাপ খেলব।”
Leave a comment